রবিবার, ২৯ জুন, ২০১৪

চোখগুলো বেঁচে উঠুক


এমন নয় যে
চাঁদে হাত রাখলেই দুইহাত সোনালি হয়ে যাবে ;
বরং জ্যোৎস্নার তপ্ত আগুনে  পুড়ে যেতেও পারে।

সূর্যালোকে দাঁড়ালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে
রাতের আঁচড়ের দাগগুলো।
যখন
 হাসির আড়ালে মানুষ লুকিয়ে ফেলছে কান্নার চিহ্নগুলো ;
তখন
আমি বলছি---এটা হয়তো মৃতদের কোন শহর।

কখনো কখনো
মানুষের চোখগুলো মাছেদের মতো নিষ্প্রাণ হয়ে যায়।
 যেসব চোখের দিকে তাকালেই শবদেহের কথা মনে পড়ে
কতটুকু বেঁচে আছে তারা?

একটি কালো দাঁড়কাক টেলিফোনের তারে
একবার ডেকে উঠতেই কে যেন বললো,
-----আজ কেউ আসতে পারে।
উত্তরকোণে কাক ডাকলে অতিথি আসে।

এমনধারা কাকতত্ত্বে বিশ্বাসী নই।
তবু--অপেক্ষায় থাকি-----কেউ আসুক।
আসুক।
আর উন্মত্তমৃদঙ্গের তালে জাগিয়ে তুলুক এই প্রাণহীননগরীকে।
নিস্পন্দ চোখগুলোতে একইসাথে ফিরুক
নোনাজল আর অক্ষরের কারুকাজ।



------------------------------------------------------------------------------------------------------

বুধবার, ২৫ জুন, ২০১৪

উজানের দূরত্ব


 সব  খেলায় একজন রেফারি থাকবে এমন কোন কথা নেই ;
অথবা রেফারির হুইসেল ।
জলক্রীড়ায়তো নয়ই।
 যেমন-----নৌকাবাইচ।

কখনো নামিনি জলে ;
 ভয় ছিল খুব।

আর এখন----------
ট্রফি  শুধু জলশাসনের দক্ষবিজেতার ;
জেনেও
উড়িয়ে দিয়েছি সাদা পাল
আর এক অলৌকিক  বৈঠায় রেখেছি হাত।
জানিনা জল কেটে কতদূর যেতে পারি---------

এইযে আচমকা হুট করে নদীতে নেমে যাওয়া
এওতো এক ব্যাখ্যাতীত প্রবলঘোরের খেলা

 জিতি
 অথবা
 ডুবি
এভাবেই ভেসে যাবো যতদূর-----------------

 একবার ভাটিতে না গেলে, জানা হবেনা
 মাঝনদীর ঢেউয়ের সাথে উজানের দুরত্ব  কতটুকু।




------------------------------------------------------------------------------------------------------------




মঙ্গলবার, ২৪ জুন, ২০১৪

সব যাত্রা পূর্বনির্ধারিত নয়




             রাত নেমে এলে গাছেরাও হিংস্র হয়ে উঠে।পাতাগুলো ছড়াতে থাকে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড।

                 আমার যে কী হয়!রাত নামলেই ইচ্ছে করে কোন ঝোপালো গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসে সারারাত পাতার বাঁশি বাজাই।যেমন বাজাতাম শৈশবের অলসউদাস দুপুরগুলোতে।বাজাই আর পান করি সোনালিজ্যোৎস্নার অমিয়দ্রাক্ষারস।

              আমার কোন আপত্তি নেই  রাতভর পাতার বিষাক্তনিঃশ্বাসে ফুসফুস ভরে নিতে।সারাদিন কত মানুষের ছড়িয়ে দেওয়া বিষ ঢুকে যায় শরীরের রন্দ্রে রন্দ্রে।আর শরীর সেই বিষগুলো নিতে নিতে হয়ে গেছে নীলকন্ঠ পাখি।কন্ঠনালীতে জমে আছে কালকুটের ভরা থলে।

                       হয়না। রাতগুলো থাকে লৌহদরোজার নিরাপত্তাবেষ্টনীতে বন্ধী। দূরে থাকে গাছ। পাতার বাঁশি।
পাহাড়সমান অনতিক্রম্য বাধা অতি ক্ষুদ্র এক ইচ্ছেপূরণের পথেও!

           পুনর্জন্মবিশ্বাসী হলে আমি চাইতাম  খোঁপায় বুনোফুল গোঁজা এক পাহাড়ী আদিবাসি রমনীর জীবন।হ্যাঁ জন্মে জন্মে আমি এক নারীই  থাকতে চাই।কিন্তু সেই নারী এই নিগড়বন্ধী সমাজের কেউনা।জীবন হবে মুক্তবিহঙ্গের মতো, প্রজাপতির মতো স্বচ্ছন্দবিহারের। যে নারীরা অবগুন্ঠনের আড়ালে লুকোয়না তাদের নারীত্ব--------বিব্রত নয় লোভীচোখের নগ্ন-চাহনীতে।উৎসবের রাতে মহুয়ার নেশায় ঘোরমাতাল হয়।নাচে তার পুরুষের হাতে হাতে ধরে, পায়ের তালে তালে  তাল মিলিয়ে।ঝোরার জলে পা ডুবিয়ে বঁড়শিতে মাছ  ধরে।চুলে মহুয়ার ফুল গুঁজে ঘুরে বেড়ায় পাহাড়ীঝর্ণার মতো বন্ধনহীন।
        জীবনতো হবেই এমন সহজ আর অনাবিল।
               নিরিবিলি রাতে পাতার বাঁশি বাজানোর সুযোগহীন  জীবন আমার চাইনা।
এমন নয় যে এই বাঁশির সুরে তৈরি হয় কোন মোহনীয় আবেশ, বরং  খানিকটা বিকট অথবা উদ্ভট মনে হয় কখনো কখনো।কিন্তু বাজাতে পারলে প্রাণের  অফুরানস্পন্দনের শব্দ বেজে উঠে ঠিকই।
        এই ইচ্ছেপূরণের  ব্যর্থতাকে  আমূল গ্রাস করে ফেলে  সীমাহীন বিষাদের নীলঢেউ।আর সারারাত সেই উথালপাথাল ঢেউয়ের নাগরদোলায় দুলতে থাকে পৃথিবী। 
 
                      ঘুম আসেনা। ঘুমপাড়ানি মাসীপিসী কেবলই পালিয়ে বেড়ায়।ছড়াগানের ছন্দে ছন্দে ঘুমে ঢুলু ঢুলু  সেই চোখ দু'টোই যে ফেলে এসেছি সহস্র আলোকবর্ষ দূরের শৈশবে ---- কেন যে বারবার ভুলে যাই! সেই মায়াভরা শিশুকাল আর ফিরবেনা । তবু হাতছানি দেবে। পিছু ডাকবে। আরো অনিদ্রায় অনিদ্রায় ভরে দেবে ব্যাকুল রাতগুলো।
         

             খুব চড়ামূল্যে কিনে নিতে হয় নিজস্ব নির্জনতাটুকু।আর এই মহামূল্য নির্জনতার ভেতরেই ঢুকে পড়ে পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল।নিজের সাথে কথা বলতে গেলেই শুরু হয়ে যায় চাওয়াপাওয়া যোগবিয়োগের অংক। জীবনতো কখনো শুরু হয়না কোন অংকের সূত্রে।তবে কেন এত হিসেবের মারপ্যাঁচ উঠে  আসে !কেন যে খুব সামান্য সময়ের জন্য হলেও মনটাকে স্মৃতিশূন্য কিংবা একেবারে অনুভুতিশূন্য করে ফেলা যায়না ! কেন যে!


                                          বেঁচে থাকার কোন মানেই হয়না জীবনে কিছু পাগলামি না থাকলে।  এই এখন যেমন একশ তিন ডিগ্রী জ্বর নিয়ে কুয়াশাভেজা ব্যালকনিতে বসে হি হি করে কাঁপছি।মনে হচ্ছে এর চাইতে আনন্দদায়ক আর কিছু ঘটেনি এই জীবনে। এমনকি এখন যদি আকাশভাঙ্গা  জ্যোৎস্না নেমে  এসে প্লাবিত করে দিতে চায় , তাকে বলবো--' এখন নয়। এখন এই জ্বরতপ্ত অন্ধকারনির্জনতাই আমার প্রিয়। আলো চাইনা '।

        যাপিতজীবন আর স্বপ্নের মাঝখানে এক রেললাইন ফাঁক।আজীবন পাশাপাশি তবু কেউ কাউকে ছোঁয়না ; কেবলই সমান্তরে ছুটে চলা  আকাশ আর সমুদ্রের মতো।

            দৃশ্যতঃ আমার কোথাও যাবার ছিলনা।
তবু চোরাটানে আবার এসে দাঁড়াই ইস্টিশনে । টিকেটকাউন্টারের জানালায় হাত বাড়িয়ে এক অচেনা গন্তব্যের টিকিট কিনে ফেলি।
সব যাত্রাইতো আর পূর্বনির্ধারিত নয়।







----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------








        


শুক্রবার, ২০ জুন, ২০১৪

আগুনের পাখিঃফিনিক্স


ভস্মস্তুপ থেকে আবার এসেছে উঠে, অবিনশ্বর আগুনের পাখী ;ফিনিক্স ।




প্রতিবন্ধী এক ঈশ্বরকে যুপকাষ্ঠে বলি দেবার পরে
যারা সন্যাসীর বাঘছাল দিয়ে বানিয়ে নিয়েছিল ট্রাম্পেট
আর সেই প্রচন্ড ঢাকের শব্দ ছড়িয়ে দিয়েছিল বাতাসের পরতে পরতে
তারাও কি পথ ভুলে নেমে গেলো কালো এক অন্ধকার গুহার দিকে?
ভুল করে বন্ধ গুহার ঘুলঘুলি খুলে গেলে
অবাঞ্চিত রোদ
রবাহুত শব্দের হৈচৈ ওঠে।
বন্ধ গুহাই নিরাপদ।বন্ধই থাক।

যুগে যুগে মানুষ কেবল শুনেছে
আগুন উগরে দেওয়া পাহাড়ের কথা।
 লারারিয়ায় এখনো অঙ্কিত আছে ভিসুভিয়াসের সাপ।


তীব্র হুইসেলের শব্দে দোলে ওঠে জলসাঘরের ঝাড়বাতি ;
অস্থির আলোর রেখাপথ ধরে আত্মবিনাশকামী পতঙ্গ ওড়ে ।

অগ্নিরহস্যসন্ধানী পতঙ্গেরা
 বারবার সে রহস্য জানতে  চেয়েছে
কী এমন ক্ষোভে ভলকানোর আচমকা এমন তীব্র ফোঁসে ওঠা।


অবশেষে
সমস্ত জমাট বরফ গলে গেলে দেখা গেল
রক্তমাংস নয়-----রঙীন পোশাক মোড়া কংকাল ছিল।


জানালার পাশে ছাইবর্ণ মেঘ
ঈশানকোণের বার্তা নিয়ে আসে-----
ছায়াপথ ধরে আবার আসবে ফিরে কফিনবন্ধী ঘুঙুরগুলো ;
যারা এখনো খুলেনি নাচের পোশাক,
ভুলেনি কত্থকের  'তেরে কেটে ' মুদ্রার বোল
একে একে ফিরবে সব  নাচঘরের  বেলোয়ারীআলোর বাসরে।
আবারো
 অদ্ভুত জোনাকীর আলো থেকে আসবে উঠে সেই নৃত্যপটীয়সী  ময়ুরগুলো
যারা অবারিত জলনৃত্যের শ্রান্তিতে রঙীনপালক ঝরিয়ে দিয়ে
উড়ে গিয়েছিল অচেনা মেঘপথের উজানসন্ধানে।


আবারো নতুন আঁচড়ে আঁচড়ে বিক্ষত হবে সোনালিডানার রেখাচিত্রগুলো;
পালকে জলের ভার অসহ হয়ে গেলে
আবারো জন্মান্তরের পথে ফিরে যাওয়া ?






















মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০১৪

মেঘমল্লার বাজে

বাজে
 মৃদঙ্গ। মেঘমল্লার। ময়ুর পেখম।

কাম্যবৃষ্টি ঝরে।


বাঁশীতে বাঁধা ছিল মেঘমল্লারের সুর ;

তুই চাইলি বলে---------------

হাজার একর আকাশ জুড়ে বৃষ্টি নামিয়ে দিলাম।

তুই কেন ভিজলিনা তবু?

হায় পিপাসার্ত মানুষ!
বরফের চাঁই ভেবে আগুন জ্বালায় সাদা পাথরের নীচে ;
পাথরে পাথর ঘষে।
আর কখনো কখনো
এই পাথুরেধোঁয়া  থেকেই ছড়িয়ে পড়ে ধুপসুগন্ধীঘ্রাণ
উড়ে আসে গন্ধবিভোর চকোরেরা ;
আগুনের আঁচে ছাই হয়।

খরার উজানে যেতে যেতে ছুঁয়ে ফেলি সমুদ্রের ঢেউ।
নোনাজলে গোড়ালি ডুবে গেলে,
চাইলাম----আকাশ আবার ফিরিয়ে দিক
সাগরের শুষে নেয়া জলকণারাশি।


আমার বাঁশীটা দিয়ে দিলে -------

তুই কি এমন বৃষ্টি নামাবি?






------------------------------------------------------------------------------------

মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০১৪

বিঁধে আছে তীর এবং ভাঙ্গা কাচের টুকরো


পায়ে বিঁধে গেছে ভাঙ্গা কাচের টুকরো
রক্ত গড়িয়ে যাচ্ছে ড্যান্সফ্লোরে---------


নাচঘরে কেন এমন ছড়িয়ে দিয়েছো চূর্ণকাচ,
পাপড়ির নীচে গোলাপের কাঁটা?

আমারতো জানাই ছিল
পারশিগালিচার নীচে---রক্ত এবং কাচের টুকরো ; দুটোই লুকনো যায়।

রোজ ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি
সমস্ত শরীর জুড়ে বিঁধে আছে ঈর্ষার ছোট ছোট তীরগুলো।
যখন বিভোরঘুমে
বুকের ভেতরে পাখি, প্রজাপতি আর ঘাসফুল তুলে রাখি ;
কেউ ভালবেসে দিয়ে যায় তীরউপহার।


ইদানীং খুব সচেতনে
মানুষের ভাঁজকরা মুঠোর দিকে  তাকিয়ে দেখি
কখন কোন ফাঁকে গুপ্তনখরগুলো বের হয়ে আসে।


------------------------------------------------------------------------

সোমবার, ৯ জুন, ২০১৪

চাঁদ ডুবে গেলে



আমাদের একটা ছায়াঘর ছিল----
খুব রোদ্দুরের দিনে চুপচাপ পাতাঝরার শব্দ শোনার জন্য

তখন--
আবছাম্লান নীহারকণার মতো স্বপ্নেরা উড়ে উড়ে যেতো চারপাশে।


আমি রাতকে বলেছি আরো কিছুটা সময় থেমে যেতে ;
নীলজোনাকীরা যেটুকু সময়----------
সোনালীআগুন জ্বালিয়ে রাখে মুঠোর ভেতরে।
ঝিঁঝিপোকারা কথা দিয়েছিল কন্ঠে তুলে দেবে গুনগুন গুঞ্জরণের
ঝিনিকিঝিনি সুর।
খুব ভীরুতায় রাত বললো--
সেও থাকতে পারেনা চাঁদের পাহারা ছাড়া ;
চাঁদ ডুবে গেলে
সেও চলে যাবে।

থেমে গেল নক্ষত্রের সব কোলাহল।


চাঁদ ডুবে গেলে রাত নিভে যায় ।
কেনযে-------------------------





-------------------------------------------------------------------------------------------------