মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৫

দুই তারে


দুটোই।
লোহার শেকল অথবা সুক্ষতম রেশমি সুতো।
 অবাক সময় দোল খায় চিকন তারের টানে!


হালখাতায় লিখে রাখছি নগদবকেয়া হিসাব-নিকাশ
আবার হুট করে ঢুকে যাচ্ছি সমান্তরে ।ছেড়ে দিয়েছি ঘুড়ির সুতো ;
নাটাইসুদ্ধ।
কৃষ্ণভৃঙ্গের হুলের ভেতর ঢুকে পড়ছে বেহিসেবী দোদুল্যমানতা ।

ভাসানের প্রতিমা হয়ে কতবার ভেসে গেছি
আবার ভাটিতে ফেরা অবিকল নয় ; অবয়বে স্রোতের আঁচড়চিহ্ন ।
জল টেনে নিয়েছে  অশ্রুর মতো মুক্তোদানাগুলো ।

 হাতগুলো  পাথরপাথর  ;
কিছুই ধরতে পারেনা
না ফুল
না অমৃতপেয়ালা।
নোনাজলে ক্ষয়ে গেছে পা।

শৈত্যপ্রবাহের চূড়ায় আঁকার কথা ছিল যুগল পদচিহ্নের ছবি ।
ভিন্ন ছবি !
ভিন্ন পদচিহ্ন !   






 

শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৫

কাগজের নৌকা




 রাতের বোতল উপুড় করে, দীর্ঘশ্বাসের মদ পান করেছি গোপনে
তার  ক'ফোঁটা ভাগ আমি নদীকে দিয়েছি ;
গড়াতে গড়াতে ঠিক মিশে গেছে সমুদ্রের নুনে।


 আজ আবার বৃষ্টি
 আজ আবার কাগজের নৌকা ভাসানো দিন ;  
                                                                  
  কতদিন স্বপ্নের স্বাক্ষর এঁকে ভাসিয়েছি  রংগীন কাগজ ।

পায়ে পায়ে নিগড়ের নিষ্ঠুর  ঝনৎকার ছিল । পথ ক্ষমাহীন।

আকাশ-উদ্যানের সিঁড়িতে রেখেছি দ্বিধান্বিত পদক্ষেপ
                       
 কত নক্ষত্রের ফুল জমে আছে আকাশের গোপন পকেটে,
 আজো খুঁজে ফিরি।

পাথরে পাথর ঘষা আগুন থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে যে  তারার ফুলগুলো ,
আমি কুড়িয়ে নিয়েছি ,
মায়াবতি স্বপ্নের ভেতর থেকে কুড়িয়ে নিয়েছি এক টুকরো চাঁদ।

গন্তব্য অজানা -----
ঘাসফড়িংয়ের পেছনে ছুটতে ছুটতে
আমিও যে কতবার ঘাস হয়ে গেছি তৃণমূলের জলকণা জানে ।
আজ আবার --
আনমনে ঢুকে পড়ি এক ছবিঘরে
দেয়ালে ঝুলন্ত ক্যানভাসে খুঁজি
মেঠো আলপথ, শিশির ছড়ানো সর্ষের ক্ষেত।



মরফিন-চর্যায় নিঃসাড় পড়ে আছে যে অচেতন দেহ
সে কি সন্নিবদ্ধ হাতের কপাট খুলে
হারিয়ে ফেলেছে জাদুর কপোত !










সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০১৫

শুভ্র শূন্যতা

আয়না তোমাকে পরিচিত করে তোমার মুখের রেখাগুলোর সাথে অথবা জাগিয়ে তুলে সুপ্ত নার্সিসিজম, নির্ভর করে তুমি কিভাবে ব্যাবহার করছো তোমার নিজস্ব দর্পণটাকে। তবে তুমি যা নও তা দেখতে চেয়োনা।ঠকে যাবে । তোমার বুঝতে হবে , নার্সিসিজমেরও একটা সীমা আছে।
বরং তোমার প্রতিবিম্বটাকে রেখে দাও পাখির চোখের ভেতরে ।

কানামাছি খেলায় তোমার চোখে বাঁধা রুমালটা প্রজাপতি হয়ে গেলে , হারজিতের কথা মনে থাকেনা। সামনে তখন কেবল কতগুলো রং অথবা মিলিত বর্ণচ্ছটার রংধনু ।রংগুলো আলাদা করে ফেলো । তুমিতো জানোনা কোনটা আসল রং। খুঁজে নাও। কিন্তু মুছে ফেলোনা ডানার পরাগ। সব রংয়ের উৎসতো এটাই।
  আয়নার কাচে যখন বিম্বিত হবে রংগুলো তখন দেখবে সব বর্ণসমন্বয়েই ফোটে ওঠে ----শুভ্র শূন্যতা।



বুধবার, ১১ মার্চ, ২০১৫

রঙীন চশমা





দৃশ্য বদলায়না
কেবল চশমার কাচ বদলায় ।

মাঝে মাঝে
যখন—শীতের কুঁকড়ে যাওয়া পাতার মাঝেও
লিখে ফেলছি জীবন ;
বিবর্ণ ঘাসে
এক টুকরো সবুজ উষ্ণতা গড়িয়ে পড়ে ।

প্রতিটি স্বপ্নের ভেতরে আমি যে ঠিকানা খুঁজি ,
কাগজকলমে সেই নাম
কেবলই লিখে যাচ্ছি ভুল বানানে।
বানান-বিভ্রাটে গন্তব্যের ভুল !

ফেলে যাচ্ছি রঙীন কাচের চশমা।



শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৪

আমি ঘুমোতে চেয়েছি



আমিতো ঘুমোতে চেয়েছি
গাছের ছায়ায় ঢাকা নিমগ্ন ঘাসের মতো নিরিবিলি
চাঁদটাই তার প্রখর জ্যোৎস্নাউচ্ছ্বাসে ঘুমোতে দেয়নি ,
চাঁদনি প্রাবল্যে ঢেলে দিল আজীবন অনিদ্রাঅসুখ।

ঘোর চন্দ্রিমার সোনালি আগুনে
কেন যে তীব্র এক হা-হুতাশ  বাঙময় হয়ে গেল !
হাহাকারের শব্দগুলো এতোটাই প্রবল ছিল
যেন নিঃশ্বাসের শব্দ বেজে যাচ্ছে
কামারশালার নেহাইয়ে হাপরস্পন্দনের মতো।



স্রোতে টলমল ডিঙ্গির শোকে সমুদ্র যখন ফেলল দীর্ঘশ্বাস
আরো প্রবল থেকে প্রবলতর ঢেউ উঠলো
গিলে নিলো আস্ত ডিঙ্গিটাকেই।


বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪

বিষ নিঃশ্বাস


 কোথাও নতুন আরেক চোরকুঠুরি তৈরি হলো ;
 কোথাও জমাট বাঁধে আরো কিছু গাঢ় অন্ধকার।





 স্থির হও। স্থির
চরকির বংশদন্ডের মতো ।
যখন তোমার চারপাশে  হাওয়ার তালে তালে  ঘুরবে
রংগীন কাগজের ঘুর্ণাবর্ত ; পৃথিবীর উল্লাস ,
তোমার মনে হবে --
আহা! যদি হতাম ইন্দ্রধনুডানার  শিতিকন্ঠ পাখি ,
কেউ না কেউতো কুড়িয়ে নিতো আনন্দের  একটি পালক !

তোমার আকাশ দেখা জানালায় কুরুশবুননের রেশমিজাল
বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বণিগুলো ।
তুমি জানো
সবাই ময়ুর নয় ,
কেউ কেউ ফুল ও পাতা ঝরানো কষ্ট বুকে নিয়ে
বৃক্ষ হয়েই বেঁচে থাকে।

কবে
কত যুগ আগে যেন
তোমার জানা হয়েছিল 'নিঃসঙ্গতা ' একটি হিংস্র ময়াল
তার কিলবিলে স্পর্শে বারবার বিবমিষা এবং শ্বাসরুদ্ধকর  ভয় ।

চাঁদের ঘোরলাগা দেয়ালে
হুট করে একটি ধুসর টিকটিকি নেমে আসে  ,
পতঙ্গভুক বীভৎসতা দেখতে চাওনি  ;
বিচ্ছিন্ন করেছো সোনালি কারুকাজের দেয়াল।



পাখির কাছে ধার করেছো  যে দু'টো  ডানা ,
আভারনাসের বিষবাষ্পে তারও  পালক পুড়ে গেছে।










সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৪

চাঁদের কৌটায়



 ছায়াটা উড়ে যাচ্ছে  স্যাঁতসেঁতে হাওয়ার ঘেরে
একটা মিশকালো দাঁড়কাকের মতো ।
আর আমি
গণিতের শূন্যগুলোকে কমাতে কমাতে নিয়ে আসছি
একক সংখ্যায়।

যখনই দীর্ঘঘুমের ব্যাকুলতা
তখনই  মুঠো মুঠো ঘুমের ওষুধ ;
স্বপ্নহীন সিডেটিভ ঘুম।

অন্ধকার বারান্দার স্তব্দ অনিদ্রার সাথে জেগে থাকে
সুনসান এক বিনিদ্র গলি ;
লাইটপোস্টের ছেঁড়া ছেঁড়া আলোগুলো
অভয়বাণীর মতো জ্বলে থাকে সারারাত ,
ঝিঁঝির গুঞ্জরণের সাথে ডানা ঝাপটায় রাতচরা পাখি ।

কখন যে বুকের ভেতরে অনায়াসে ঢুকে পড়ে
একটা বিচ্ছিন্ন  আকাশ -----

চাঁদের রূপালি কৌটায় যে স্বপ্ন জমাই সারারাত
ভোর হলেই কোথায় যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলি !


এক টুকরো সোনালি দড়ি অথবা সুতো