বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৭

ইল্যুসন






 হ্যাঁ তোমাকেইতো!
যুগ যুগ ধরে খুঁজেছি তোমাকেই।

 শুধু যুগ? অনন্ত মহাকাল নয় কেন?
চেনাঅচেনা সমস্ত মুখের ভীড়ে তোমার আদল....
ব্যস্ত সড়ক পার হতে হতে
প্রতিটি পথিকের দিকে খরচোখে তাকিয়েছি।
তুমি কোথাও ছিলেনা।হয়তো থাকোইনা।
তুমি যে থাকোনা --- তুমি যে অলীক
কেউ বললোনা সে কথা। অনেকেই জানে।
হয়তো বড়রাস্তার ওই যে পাগলটা
মাঝেমাঝে মুখোমুখি হয়ে গেলে
সন্ত্রস্ত সতর্কতায় দ্রুত সরে যাই, সেও জানে।
হয়তো কাউকে একদিন এমন করে সেও খুঁজেছিল।
সে জানে! আমি জানিনা!

শেষপর্যন্ত জেনেছি আমি
'তুমি' এলকোহলের ঘোরে তৈরি এক ইল্যুসন
খোয়ারি ভাঙ্গার পরেই যা মিলিয়ে যায়।
এই অনর্থক বোধের জন্য মানুষ কতোপথ
অহেতুক হেঁটে গেছে!
কেউ কোনদিন তাকে পায়নি।

পায়না।

.

মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৭

আকাশবাড়ির চিঠি

আকাশের পকেটে কোন ডাকবাক্স আছে?

চিঠি উড়ে যাচ্ছে একটা প্রগাঢ় নীল অভিযাত্রার দিকে
শূন্যের সাথে শূন্যের দ্বন্দ্বজ কোলাহলে কে বেশী বেগবান
নির্ধারিত হোক।
হিপনিক জার্কসে ঘুম ভেঙ্গে গেলে
বুকের মাঝখান থেকে এক জোড়া সারস উড়ে যায়
অন্তহীন মেঘের বাড়ির পথে.......
একটি প্রবল ঘুম দ্রুত পতনোন্মুখ
অভ্রংলিহ পাহাড়ের চূড়া থেকে নিতল গহ্বরে।
আহা স্বপ্ন! সূর্যমহলের সিংহদুয়ারে আটকে পড়া স্বপ্নগুলো!
মনোশরীরবৃত্তে বন্ধী ঘুম অথবা স্বপ্নের প্রতি
তর্জনী তাক করা ; অভিষঙ্গবাহুল্য।  মনে হলো এমন।

রাত বেয়ে নেমে আসে কাঁকরভেজা এক পথ
শিথানে চুলের গোড়া থেকে ঝরে পড়ছে মেডুসার সাপ......

বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৭

এবং দ্বিতীয় আমি




ম্যাজিক মিরর।
এপাশেও প্রতিচ্ছবি। ওপাশেও।
তোমাকে দেখছি আমি।তুমিও কী দেখছো আমাকে?

জেনে নাও
আমরা কোনদিন হাত ধরাধরি করে হাঁটবোনা
রোমান্টিক কাপলের মতো।
মাঝখানে অভঙ্গুর কাচের দেয়াল ;
তবু অলৌকিক স্পর্শ ছুঁয়ে যাবে, যাচ্ছে।
অহোর্নিশ অন্তর্গত যুদ্ধ হবে। সমঝোতা হবে।
মাঝেমাঝে, --' তোমার তুমিকে বড়ো ভালোবাসি' বলে ফেলবে বেখেয়ালে।
আমিও তোমাকে এমন কিছু.....

আমরা আজীবন সমান্তর দূরত্বে।
আমরা আজীবন পাশাপাশি।

আমরা এক নই।
অবিচ্ছিন্ন নই।তবু আমাদের বিচ্ছেদ হবেনা।
পৃথিবীর নিক্তির মাপে দুজন একত্র।
কিন্তু আমরাতো এক নই -- দুজনেই জানি।আমরা দুজন।
শুধুমাত্র অন্যোন্য।
আমরা পৃথক নই তবু আমৃত্যু বিভেদদহন বয়ে চলি।

আমি
এবং
দ্বিতীয় আমি।



বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭

হাওরের কান্না






আকাশকে মানায়না অসময়ের এই বৃষ্টিবিলাস।
এখন ইলিশখিচুড়ির বিলাসিকথন বড় বেমানান।

কেন এমন ভাঙ্গছে আকাশ?
কেন এমন প্রচণ্ড ঝড়
প্রকৃতির এমন তাণ্ডব?সব লণ্ডভণ্ড - তছনছ।
আকাশের পাথরখন্ডগুলো খেয়ে নিলো
কৃষকের ধানিজমি, ক্ষেতভরা ধান;গ্রাসাচ্ছাদনের পথ।
ঘর ভাঙ্গল।ভেসে গেলো জনপদ; এমন বন্যার কোপ!
মানুষের হাহাকারে ভেসে যাচ্ছে হাওর-নদী-বিল।
মানুষ কোথায় দাঁড়াবে?
ছোট্ট একটি কুঠির। লাউমাচা। গবাদিপশুর ঠাঁই। সব।
সব ভেসে গেছে।
কোথায় পরিত্রাণ
কীভাবে মানুষের এই অবিচ্ছিন্ন কান্নার অবসান হবে?

মানুষ দাঁড়াও আজ বিপন্ন মানুষের পাশে।
এই প্রতিকূল প্রকৃতি ; এই যুদ্ধে
বেঁচে থাক মানবতা, হাতে হাত রাখা  সুদৃঢ় বন্ধন।



মেয়েটা



মেয়েটা আসতো মাঝেমধ্যে ছেলেটার খোঁজে।
          ---- এমন বললো পুরনো বাড়িওয়ালা।
আসতো চোখভরা এক আকাশ মেঘ সাথে করে
আচমকা বৃষ্টিতে চৌকাঠ ভিজে যেতো।
সেই প্রবল বর্ষণের  ভেতরে বিষন্ন
পা টলোমলো করতে করতে ফিরে যেতো ;
তার কোন বর্ষাতি ছিলোনা।
পুরনো ঠিকানায় রোজ মেয়েটার চিঠি।জমে জমে স্তুপ ।
স্থান সংকুলানে মাঝেমাঝে ফেলে দিতে হয় ডাস্টবিনে;
ছেলেটা দেয়নি তার নতুন ঠিকানা।

ড্রয়ারভর্তি স্মৃতির কোলাজ সামনে নিয়ে বসে থাকে মেয়ে।
পুরনো এলবাম। কাঁশবন।শূন্যে উড়ে যাওয়া যুগলবন্ধী ছবি;
ফ্যাঁকাসে হতে হতে সাদা মেঘের কিনারা ছুঁয়েছে ।
হুডখোলা রিকশায় শহর মুঠোয় পোরা দিন ;
সব নিয়ে চলে গেছে ছেলে।

মেয়েটা
ব্যাগভর্তি ঘুম কিনে নিয়ে আসে।



সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৭

মিউট




 একটা ঝাপসা রাতের ভেতর জুড়ে বসে আছে
আরেকটা কুয়াশামোড়া রাত।
মর্মরের ঘুঙুর বাজার অপেক্ষায় খোলা ছিল একটি জানালা।

তখন।
যখন আমরা শিখে নিয়েছিলাম
অন্ধকারের স্যাঁতসেঁতে আলোয়ানের ভেতর থেকে কিভাবে সবুজ পায়রা
ওড়াতে হয়,
প্রবল হিমের ভেতরে বেড়ালের ওম মাখা পশমী আমেজ।


ঘোর মহুয়া আর মাদলের মাতাল তালে বেজে যাচ্ছে কেউ।
আমিতো সব মিউটেই দিয়ে রেখেছিলাম!







রবিবার, ২ এপ্রিল, ২০১৭

ঈশ্বর



 আকণ্ঠসূরার ভারে টলতে টলতে কোথায় যাচ্ছে এ  মাতাল শহর!

আমাদের ঘরে কোন ঈশ্বর আসেননা।
মেঘ ছিঁড়ে ঝুম বৃষ্টি নামলেই,
আধোঅন্ধকার ঘরে
থোবড়ানো বিয়ারের ক্যান হাতে কেবলই ঝিমান।

আমরা দিনরাত্রি তার তপস্যায় থাকি
প্রার্থনারত হাতগুলো থেকে মাঝেমধ্যে 'আহা ' ধ্বনি বাজে।

মাত্র আধহাত দূরে পানপাত্র রেখে
যে লোকটা অসীমধৈর্যে বসে আছে
ঠোঁটে ছোঁয়ালেই শেষ হয়ে যাবে ভয়ে ;
সেই সুস্থির লোকটাকেই ঈশ্বর মনে হয়।

এই যে এখন, টালমাটাল পায়ে হেঁটে যাচ্ছে একজন ঘোরমাতাল

যদি ঠিকঠাক দরোজায় ঠোকা দেয় সেও তো ঈশ্বর হয়ে যেতে পারে....