বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭

হাওরের কান্না






আকাশকে মানায়না অসময়ের এই বৃষ্টিবিলাস।
এখন ইলিশখিচুড়ির বিলাসিকথন বড় বেমানান।

কেন এমন ভাঙ্গছে আকাশ?
কেন এমন প্রচণ্ড ঝড়
প্রকৃতির এমন তাণ্ডব?সব লণ্ডভণ্ড - তছনছ।
আকাশের পাথরখন্ডগুলো খেয়ে নিলো
কৃষকের ধানিজমি, ক্ষেতভরা ধান;গ্রাসাচ্ছাদনের পথ।
ঘর ভাঙ্গল।ভেসে গেলো জনপদ; এমন বন্যার কোপ!
মানুষের হাহাকারে ভেসে যাচ্ছে হাওর-নদী-বিল।
মানুষ কোথায় দাঁড়াবে?
ছোট্ট একটি কুঠির। লাউমাচা। গবাদিপশুর ঠাঁই। সব।
সব ভেসে গেছে।
কোথায় পরিত্রাণ
কীভাবে মানুষের এই অবিচ্ছিন্ন কান্নার অবসান হবে?

মানুষ দাঁড়াও আজ বিপন্ন মানুষের পাশে।
এই প্রতিকূল প্রকৃতি ; এই যুদ্ধে
বেঁচে থাক মানবতা, হাতে হাত রাখা  সুদৃঢ় বন্ধন।



মেয়েটা



মেয়েটা আসতো মাঝেমধ্যে ছেলেটার খোঁজে।
          ---- এমন বললো পুরনো বাড়িওয়ালা।
আসতো চোখভরা এক আকাশ মেঘ সাথে করে
আচমকা বৃষ্টিতে চৌকাঠ ভিজে যেতো।
সেই প্রবল বর্ষণের  ভেতরে বিষন্ন
পা টলোমলো করতে করতে ফিরে যেতো ;
তার কোন বর্ষাতি ছিলোনা।
পুরনো ঠিকানায় রোজ মেয়েটার চিঠি।জমে জমে স্তুপ ।
স্থান সংকুলানে মাঝেমাঝে ফেলে দিতে হয় ডাস্টবিনে;
ছেলেটা দেয়নি তার নতুন ঠিকানা।

ড্রয়ারভর্তি স্মৃতির কোলাজ সামনে নিয়ে বসে থাকে মেয়ে।
পুরনো এলবাম। কাঁশবন।শূন্যে উড়ে যাওয়া যুগলবন্ধী ছবি;
ফ্যাঁকাসে হতে হতে সাদা মেঘের কিনারা ছুঁয়েছে ।
হুডখোলা রিকশায় শহর মুঠোয় পোরা দিন ;
সব নিয়ে চলে গেছে ছেলে।

মেয়েটা
ব্যাগভর্তি ঘুম কিনে নিয়ে আসে।



সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৭

মিউট




 একটা ঝাপসা রাতের ভেতর জুড়ে বসে আছে
আরেকটা কুয়াশামোড়া রাত।
মর্মরের ঘুঙুর বাজার অপেক্ষায় খোলা ছিল একটি জানালা।

তখন।
যখন আমরা শিখে নিয়েছিলাম
অন্ধকারের স্যাঁতসেঁতে আলোয়ানের ভেতর থেকে কিভাবে সবুজ পায়রা
ওড়াতে হয়,
প্রবল হিমের ভেতরে বেড়ালের ওম মাখা পশমী আমেজ।


ঘোর মহুয়া আর মাদলের মাতাল তালে বেজে যাচ্ছে কেউ।
আমিতো সব মিউটেই দিয়ে রেখেছিলাম!







রবিবার, ২ এপ্রিল, ২০১৭

ঈশ্বর



 আকণ্ঠসূরার ভারে টলতে টলতে কোথায় যাচ্ছে এ  মাতাল শহর!

আমাদের ঘরে কোন ঈশ্বর আসেননা।
মেঘ ছিঁড়ে ঝুম বৃষ্টি নামলেই,
আধোঅন্ধকার ঘরে
থোবড়ানো বিয়ারের ক্যান হাতে কেবলই ঝিমান।

আমরা দিনরাত্রি তার তপস্যায় থাকি
প্রার্থনারত হাতগুলো থেকে মাঝেমধ্যে 'আহা ' ধ্বনি বাজে।

মাত্র আধহাত দূরে পানপাত্র রেখে
যে লোকটা অসীমধৈর্যে বসে আছে
ঠোঁটে ছোঁয়ালেই শেষ হয়ে যাবে ভয়ে ;
সেই সুস্থির লোকটাকেই ঈশ্বর মনে হয়।

এই যে এখন, টালমাটাল পায়ে হেঁটে যাচ্ছে একজন ঘোরমাতাল

যদি ঠিকঠাক দরোজায় ঠোকা দেয় সেও তো ঈশ্বর হয়ে যেতে পারে....





রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৭

অপরিচিত



আবার দুইজন মুখোমুখি ;
তাদের মাঝখানে
অপরিচয়ের প্রগাঢ় ছায়া
ঝালরের মতো দুলে থাকে।
আকস্মিক স্মৃতির ঝাপটায়
তৈরি দৃশ্যপট
সে কেবল একটা দেজাভ্যু ।

শুধু একটা কথাই সত্যি বলে মনে হয়;
স্পর্শের ভাঁজে ছিলো তীব্র আগুন।



একা একজন

প্রবল বর্ষণের ভেতরে হেঁটে যাচ্ছে
ঝড়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে
একজন একা মানুষ।
সারারাতের জন্য
এই ঝড়জল
এই দুর্ভোগ।
রাত শেষ না হলে খুলবেনা
ভোরের আগে খুলবেনা
পান্থশালার দোর।

দ্বিধান্বিত





আগুন এবং স্বর্ণবিভ্রমের দোদুল্যমানতায়
পার হচ্ছি এক আজবধ্রুপদ মহাকাল।
প্রতিটি আগুন আমি সোনা ভেবে স্পর্শ করেছি
আর হাতের দগদগে ক্ষত লুকিয়েছি গোলাপমোড়কে।

দ্বিধা;
হাপরের কঠিন তাপতরঙ্গে পুড়ছে যে ধাতুভাগ
সে কী স্বর্ণপিন্ড হবে? না কী লৌহজঞ্জাল?