বাসার সামনের রাস্তার ওপারে অট্টালিকা নির্মাণের কাজ চলছে।কেউ ইট ভেঙ্গে টুকরো করছে কেউবা বালি-সিমেন্টের মিশ্রন তৈরি করছে,কেউ কেউ সেইসব মিশ্রনের গামলা করে মাথায় নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাচ্ছে নির্মানাধীন ভবনের একেবারে উপরের শেষ সীমানা পর্যন্ত।এসবই নিত্য-নৈমিত্তিক দৃশ্য।এরা নির্মাণ-শ্রমিক।রোদ-বৃষ্টি-ঝড়-জল উপেক্ষা করে প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওদের এই রুটিন।এটাই ওদের জীবিকার উপায়।এর ব্যত্যয় হলে চুলায় হাঁড়ি চড়বেনা।খাবার জুটবেনা ক্ষুধার্ত শিশুগুলোর মুখেও।যুগ যুগ ধরেই জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ ঘর থেকে বাইরে,দেশ থেকে দেশান্তরে যাচ্ছে।সেখানে নতুনত্ব কিছুই নেই।নতুন যা তা হলো এই শ্রমিকদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে নারী-শ্রমিক।কোথায় নেই এই নারী-শ্রমিক?কলকারখানা ( বিশেষ করে পোষাক-নির্মাণের কারখানাগুলোতে),হোটেল-রেস্টুরেন্ট,রাস্তায় ফেরি করে জিনিস-পত্র বিক্রি,কাঁচা বাজারে সবজি বিক্রি,বাসাবাড়ির কাজ,পুরুষের মেসের রাঁধুনীর কাজ সবকিছুতেই আছে এই নারী-শ্রমিকেরা।এদের কেউ বিধবা,কেউ স্বামী পরিত্যক্তা( স্বামী অন্য বঊ নিয়ে থাকে খরচ-পত্র দেয়না বাচ্চাদের জন্যও না এমন গল্প খুব সাধারণ),স্বজনহীন(বাবা-মা নেই ভাইরাও দেখেনা ), আবার অনেকেই আছে স্বামী অসুস্থ কাজ করতে পারেনা।এদের প্রায় সকলেরই একাধিক সন্তান-সন্ততি আছে।এদের ছাড়াও নারী-শিশু বা অল্পবয়সী নারী কর্মীদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।পোশাক-নির্মাণের কাজে এইসব অল্পবয়সী নারী-কর্মীদের দেখা যায় বেশী।
এরা কিন্তু এই শহরের আদি-বাসিন্দা নয়।এককালে হয়তো কোন সুজলা-সুফলা গ্রামের লক্ষীমন্ত বধু হয়ে মাথায় ঘোমটা টেনে আপন ঘর-গেরস্থালির টুকটাক কাজেই কেটে যেতো তার সারাটা দিন ।গ্রামের ডানপিটে মেয়েটি সারাদিন এ বাড়ী- বাড়ী ঘুরে বেড়াতো।আজ আর সেই ঘর নেই--সেই বসত-ভিটা নেই।যান্ত্রিক শহরের এক যন্ত্রমানব হয়ে সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতেই কাটে তার দিন।কাজের শেষে ঘর বলতে নোংরা বস্তির আলো-বাতাসহীন একটা আশ্রয়।তাও এইসব বস্তির একটা সম্পূর্ণ ঘরের মালিকানা আছে যার সে অনেক ভাগ্যবান।বস্তির একটা ঘরকে ভাগাভাগি করে ৩/৪টা পরিবার মিলে থাকে এমন মানুষের সংখ্যাই বেশী।সারাদিন পুরুষের সাথে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে ----দিনের শেষে বিশ্রামের জন্য নেই তার কোন আলাদা নির্জনতা যাকে আমরা ভাগ্যবান শিক্ষিতজনেরা 'প্রাইভেসী' বলে আখ্যায়িত করে থাকি। এছাড়াও ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন-যাপন করা নারীরা,শিশুরা যাদের রাত কাটে খোলা আকাশের নীচে হয়তো কখনো কোন বারান্দায় নাহয় ফুটপাতে। এই হতদরিদ্র মানুষগুলো পর্দা-বেপর্দা,পরপুরুষ,বেগানা , এইসব নিয়ে মাথা ঘামানোর অবকাশ পায়না।এদের ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্ব নেননা কোন ধর্ম-প্রাণ নেতা। এইসব হতভাগা মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা কিন্তু রাষ্ট্র এবং সমাজ উভয়েরই।
রাষ্ট্র যখন একটি অবহেলিত জনগোষ্ঠির-( এখানে জনগোষ্ঠি বলতে নারীকেই বোঝাচ্ছি যেহেতু মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশী নারী হওয়া সত্ত্বেও পুরুষপ্রধান সমাজের নানা বৈষম্য এবং অবহেলার শিকার)উন্নয়নের কথা বলে তখন স্বাভাবিকভাবেই আশাবাদী হয়ে উঠি। আশাবাদী হয়ে উঠি বিশেষতঃ এই হতদরিদ্র নারী-সমাজের কথা চিন্তা করেই উন্নয়নের ধারায় যদি এরা জীবন-যাপনের মৌলিক চাহিদাগুলোতে খানিকটা সহায়তা পায়।
মন খারাপ হয়ে যায় তখনই যখন দেখি হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নারীর উন্নয়নের এই ধারাতে বাধা সৃষ্টি করে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ। এমনকি পবিত্র ধর্মগ্রন্থকে ব্যবহার করা হয় রাস্তায় পিকেটিং করার হাতিয়ার হিসেবে(প্রতিটি মুসলিম পরিবারে অন্ততঃ একটি কোরআন শরীফ থাকে এবং একে রক্ষণাবেক্ষন করা হয় সর্বাধিক মর্যাদায়----এমনকি ওযু ছাড়া স্পর্শ করাও যায়না)।
নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ বাস্তবায়নে বাধাদানকারী ভদ্রলোকদের কাছে দাবী আগে হতদরিদ্র নারী সমাজের ইজ্জ্বত-আব্রু -ধর্মীয় অনুশাসন মানার মতো সুযোগ এবং পরিবেশ নিশ্চিত করে দেন ----তারপরে অন্য কথা।
বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১১
মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০১০
নিগড়-বন্দী
ভাল আছি।কুশলজিজ্ঞাসার উত্তরে এমন বলতেই হয়।এটাই ভব্যতা।
সভ্যতার হাত ধরে মুছে ফেলি সরল স্বীকারোক্তিগুলো।
হাইরাইজের খাঁচার ভিতরে স্মৃতিতাড়িত বিনিদ্র রাত।
ভুলে গেছি প্রথম বৃষ্টির সোঁদাগন্ধ।
টিনের চালে বর্ষণের ঝমঝম করতাল ঘুমের মদিরা।
"বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল........................"
শ্রাবনের ভরা গাঙ্গে ভেসে যাওয়া পদ্মপাতায় আঁকা পায়ের ছাপ;অভিজ্ঞান।
বকুল তলায় জেগে উঠা ভোর
ডাকপিয়নের প্রতীক্ষা্য মন আনচান করা প্রহরগুলো।
ভাল নেই---বলতেই ওষুধ আর অসুখের গন্ধ।হাসপাতাল।ডেটলফিনাইল।করুণার আর্তি।
ভাল লাগেনা---প্রিয়জনের উৎকন্ঠিত মুখ, ব্যাকুল জিজ্ঞাসা।তাই সারাক্ষণ ভাল থাকি।
প্রতিরাতে ঘুমের দরোজায় প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকে আটপৌরে যন্ত্রণাহতাশা।
মন্ত্রের মতো প্রবোধবাক্যে সান্ত্বনা খুঁজি-------------------------
কোন এক শিশির ভেজা ভোরে কুয়াশার চাদর গায়ে হেঁটে যাবো দূর গাঁয়ের অচেনা পথে
সবুজ ঘাসের বুকে ঝরে পড়া নীহারের ফুল কুড়োতে কুড়োতে যাবো
নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে মেখে নেবো সর্ষেক্ষেতের ঘ্রাণ
নাগরিক বিষগন্ধ পিছনে ফেলে বহুদূর চলে যাবো।আর ফিরবোনা।
অনিদ্রার এমনতরো কঠিন শপথবাক্য দিনের আলোয় মুছে ফেলে দিনযাপন করি।
কোথাও যাইনা।শিকলে বেঁধেছি পা।শিকল খুলেনা।
সভ্যতার হাত ধরে মুছে ফেলি সরল স্বীকারোক্তিগুলো।
হাইরাইজের খাঁচার ভিতরে স্মৃতিতাড়িত বিনিদ্র রাত।
ভুলে গেছি প্রথম বৃষ্টির সোঁদাগন্ধ।
টিনের চালে বর্ষণের ঝমঝম করতাল ঘুমের মদিরা।
"বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল........................"
শ্রাবনের ভরা গাঙ্গে ভেসে যাওয়া পদ্মপাতায় আঁকা পায়ের ছাপ;অভিজ্ঞান।
বকুল তলায় জেগে উঠা ভোর
ডাকপিয়নের প্রতীক্ষা্য মন আনচান করা প্রহরগুলো।
ভাল নেই---বলতেই ওষুধ আর অসুখের গন্ধ।হাসপাতাল।ডেটলফিনাইল।করুণার আর্তি।
ভাল লাগেনা---প্রিয়জনের উৎকন্ঠিত মুখ, ব্যাকুল জিজ্ঞাসা।তাই সারাক্ষণ ভাল থাকি।
প্রতিরাতে ঘুমের দরোজায় প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকে আটপৌরে যন্ত্রণাহতাশা।
মন্ত্রের মতো প্রবোধবাক্যে সান্ত্বনা খুঁজি-------------------------
কোন এক শিশির ভেজা ভোরে কুয়াশার চাদর গায়ে হেঁটে যাবো দূর গাঁয়ের অচেনা পথে
সবুজ ঘাসের বুকে ঝরে পড়া নীহারের ফুল কুড়োতে কুড়োতে যাবো
নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে মেখে নেবো সর্ষেক্ষেতের ঘ্রাণ
নাগরিক বিষগন্ধ পিছনে ফেলে বহুদূর চলে যাবো।আর ফিরবোনা।
অনিদ্রার এমনতরো কঠিন শপথবাক্য দিনের আলোয় মুছে ফেলে দিনযাপন করি।
কোথাও যাইনা।শিকলে বেঁধেছি পা।শিকল খুলেনা।
শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১০
কলকল্লোল কোলাহলে
ইদানীং তোমাকেই ভয় পাচ্ছি-----নির্জনতা।
অন্ধকার ঘন হয়ে এলে রাতের কফিন থেকে ড্রাকুলার মতো উঠে আসো;
প্রাচীন-সমাধিতে ডানা ঝাপটায় রক্তভুক বাদুড়ের পাল।
কি অনায়াসে তুলে আনো
যত্রতত্র হেলায় ফেলে রাখা বিস্মৃতির প্রখর হলুদ খামগুলো,
ছেঁড়াখোঁড়া-অগোছালো অংক না মিলা হিসেবের খাতা।
চাইনা।
ধুলোর আবরণে--বিস্মরণের ছাইয়ের নীচেই ওসব মানায়।
জনপদে মানায়না শবের মিছিল।
যেতে চাই কোলাহলে।ঊর্মিমালায়।
ডেকে যাচ্ছে নীল ঢেউ--মাঝ সমুদ্র ----------------
আমি খুঁজছি এক অলৌকিক-সাম্পান---ডুবুরির পোষাক;
এই উন্মত্ত-মাতাল প্রচন্ড-তরঙ্গের গভীর-গভীর-গভীরতম নিবিড়তায়
পৌঁছানোর সমস্ত আয়োজন--সাজ-সরঞ্জাম।
অতলের শিথানে হাত রেখে স্পর্শ করি কলকল্লোল জলের পৃথিবী।
অন্ধকার ঘন হয়ে এলে রাতের কফিন থেকে ড্রাকুলার মতো উঠে আসো;
প্রাচীন-সমাধিতে ডানা ঝাপটায় রক্তভুক বাদুড়ের পাল।
কি অনায়াসে তুলে আনো
যত্রতত্র হেলায় ফেলে রাখা বিস্মৃতির প্রখর হলুদ খামগুলো,
ছেঁড়াখোঁড়া-অগোছালো অংক না মিলা হিসেবের খাতা।
চাইনা।
ধুলোর আবরণে--বিস্মরণের ছাইয়ের নীচেই ওসব মানায়।
জনপদে মানায়না শবের মিছিল।
যেতে চাই কোলাহলে।ঊর্মিমালায়।
ডেকে যাচ্ছে নীল ঢেউ--মাঝ সমুদ্র ----------------
আমি খুঁজছি এক অলৌকিক-সাম্পান---ডুবুরির পোষাক;
এই উন্মত্ত-মাতাল প্রচন্ড-তরঙ্গের গভীর-গভীর-গভীরতম নিবিড়তায়
পৌঁছানোর সমস্ত আয়োজন--সাজ-সরঞ্জাম।
অতলের শিথানে হাত রেখে স্পর্শ করি কলকল্লোল জলের পৃথিবী।
সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০১০
ট্রেন
কু-উ-উ-উ-ঝিক-ঝিক-ঝিক---কু-উ-উ-ঝিক-ঝিক-----
চলে যাচ্ছি----চলে যাচ্ছি-----চলে যাচ্ছি-----------
ছুটে চলেছে বিশাল ড্রাগন মুখে আগুনের ধোঁয়া ।আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে স্টেশন----চেনা শহরের শেষ চিহ্ন।
দু'পাশের ধানক্ষেত --ক্ষেতে কাজ করা চাষী---মাঠে চরা গরুর পাল--বাঁশী-বাজানো রাখাল-বালক----খাল-বিল-----নদী-
মাছের জাল আটকে রাখা বাঁশের মাচান---দূরগ্রাম---হাটুরে মানুষ; কত দ্রুত পিছনে চলে যাচ্ছে সব---আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
জানালা-খোলা কামরার ভেতরে জমছে কুয়াশার মতো ধুলো।জমছে স্মৃতি।শৈশব।ছুটি।ট্রেন। মামাবাড়ী।
-----" মামাবাড়ির পদ্মপুকুর গলায় গলায় জল
এপার হতে ওপার গিয়ে নাচে ঢেউয়ের দল।"
কু-উ-উ-ঝিক-ঝিক--কু-উ--উ--ঝিক--ঝিক----
চা-বাগান--পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে ফুটে থাকা নাম না জানা ফুলের নানারঙ ---অচেনা লোকালয়--এসব দুই চোখে মেখে নিয়ে আমিও ফিরে যাচ্ছি বার বার আমার শৈশবে-কৈশোরে।স্মৃতি থেকে খুঁড়ে তুলছি সেইসব রূপালী-বিষাদ যারা চোরা-জ্যোৎস্নার আড়ালে লুকোনো ছিল।আর আগুনের স্তব গাইতে গাইতে একদিন ছায়াপথে মিলিয়ে গিয়েছিল যে নীলকন্ঠ পাখীর ঝাঁক ,আজ আবার ফিরে এলো ডানায় আগুন ছড়াতে ছড়াতে।
আজ আবার মনে পড়ে গেল এমনি এক জংশনে আমি উঠে পড়েছিলাম একটি ভুল গাড়ীতে।টিকিট-চেকার বললো--'এ গাড়ীতো আপনার নয়,--এখানেই নেমে যান'।
সকলেরই কি থাকে অচেনা-মাঝপথে নেমে যাবার সাহস? আমার ছিলনা।
চলে যাচ্ছি----চলে যাচ্ছি-----চলে যাচ্ছি-----------
ছুটে চলেছে বিশাল ড্রাগন মুখে আগুনের ধোঁয়া ।আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে স্টেশন----চেনা শহরের শেষ চিহ্ন।
দু'পাশের ধানক্ষেত --ক্ষেতে কাজ করা চাষী---মাঠে চরা গরুর পাল--বাঁশী-বাজানো রাখাল-বালক----খাল-বিল-----নদী-
মাছের জাল আটকে রাখা বাঁশের মাচান---দূরগ্রাম---হাটুরে মানুষ; কত দ্রুত পিছনে চলে যাচ্ছে সব---আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
জানালা-খোলা কামরার ভেতরে জমছে কুয়াশার মতো ধুলো।জমছে স্মৃতি।শৈশব।ছুটি।ট্রেন। মামাবাড়ী।
-----" মামাবাড়ির পদ্মপুকুর গলায় গলায় জল
এপার হতে ওপার গিয়ে নাচে ঢেউয়ের দল।"
কু-উ-উ-ঝিক-ঝিক--কু-উ--উ--ঝিক--ঝিক----
চা-বাগান--পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে ফুটে থাকা নাম না জানা ফুলের নানারঙ ---অচেনা লোকালয়--এসব দুই চোখে মেখে নিয়ে আমিও ফিরে যাচ্ছি বার বার আমার শৈশবে-কৈশোরে।স্মৃতি থেকে খুঁড়ে তুলছি সেইসব রূপালী-বিষাদ যারা চোরা-জ্যোৎস্নার আড়ালে লুকোনো ছিল।আর আগুনের স্তব গাইতে গাইতে একদিন ছায়াপথে মিলিয়ে গিয়েছিল যে নীলকন্ঠ পাখীর ঝাঁক ,আজ আবার ফিরে এলো ডানায় আগুন ছড়াতে ছড়াতে।
আজ আবার মনে পড়ে গেল এমনি এক জংশনে আমি উঠে পড়েছিলাম একটি ভুল গাড়ীতে।টিকিট-চেকার বললো--'এ গাড়ীতো আপনার নয়,--এখানেই নেমে যান'।
সকলেরই কি থাকে অচেনা-মাঝপথে নেমে যাবার সাহস? আমার ছিলনা।
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১০
এটি একটি গল্প হতে পারে
ক্রমশঃ মিশে যাচ্ছি পাহাড়ের অশ্রুধারার ভিতরে।এই জলধারার অন্তে জন্ম নিয়েছে যে নদী আমি তার নাম দিয়েছি--'নিঃসঙ্গতা'।
দূর থেকে দেখলে------সে কেবল দূর থেকেই দেখা----মনে হয় দিগন্তে আকাশ আর পাহাড় একসাথে মিশে আছে- খুব ঘনিষ্ঠ
বন্ধুর মতো- জড়াজড়ি করে আছে।দৃষ্টিভ্রম।এক বন্ধু বলেছিল,-'পাহাড়ের জন্য আমার খুব কষ্ট হয়।কেমন একাকী-নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে থাকে'।মানি।চোখের বিভ্রমে যাই মনে হোক --পাহাড়তো সত্যি সত্যি কি ভীষণ নিঃসঙ্গ আর বিষন্ন!
থোকা থোকা জারুল-শিরীষের ফুলের জলসায় পাখী-প্রজাপতি আর ফড়িংয়ের ভোর থেকে সায়াহ্ন পর্যন্ত লুকোচুরি-হুটোপুটি দুরন্তপনা।তবু তার বিষাদ ঘুচেনা।
আসলে এভাবে পাহাড়ের দুঃখের কথা বলতে চাইনি।আমি বলতে চেয়েছি একটি প্রজাপতির কথা।যার ডানায় মেখে দিয়েছিলাম আমার হাতের আবীর।এবং সেই প্রিয় নদীটির কথা।যার দুই পারের হরিৎ ঘাসের বুকে নীল-হলুদ-গোলাপি হরেক বর্ণের ফুলের মেলা।ক্ষণে ক্ষণে দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে পালিয়ে যাওয়া আকাশের ভিতরে হারিয়ে যাবার গল্প।
অথবা একটি লাল ফড়িংয়ের রূপকথা-উপাখ্যান।
* * * * * *
স্মৃতি কেবল আনন্দ নয়।সে বিস্মরণের অন্য প্রান্ত থেকে তুলে আনে বিদ্রোহ এবং যুদ্ধের কথা।জয় এবং পরাজয়ের গল্প।
চিলেকোঠায় পরিত্যক্ত নাটাইয়ের বিবর্ণ সুতো।রংচটা লাল-নীল ঘুড়ির কংকাল। অপটু হাতের চিত্রশৈলি--
গ্রামের দৃশ্য, ডোনাল্ড ডাক।ইয়ো ইয়ো।মার্বেলের বাক্স।
" জীবনের ধন কিছুই যাবেনা ফেলা
ধুলোয় তাদের হোক যত অবহেলা।"
কিছুই ফেলা হয়নি।ফেলা হয়না।স্মৃতির সিন্দুক খুলে মাঝে মাঝেই উঁকি দিতে হয়।কখনো উঠে আসে বহুমূল্য হীরে-জহরৎ।কখনোবা উথাল-পাথাল এক যন্ত্রণা।
কাগজ পুড়ানোর সাথে সাথে স্মৃতিও পুড়ানো হয়ে গেছে ----এমন নির্বোধ ভাবনাকে কি বলা যায়?'করুণা' শব্দটি শুধুমাত্র নির্বোধদের জন্য সংরক্ষিত করে ফেলি।
এইসব পিছুটানা স্মারক থেকে গড়ে নেই এক আগুনের পাখী ।যে তার উড়ার পথে পথে ছড়িয়ে দেবে অগ্নি-পালক।সেই পথ দিয়ে যাবে যেসব পথিকেরা---তাদের দগ্ধ পায়ের ছাপে আঁকা ছবিগুলো কেমন হতে পারে?পাখীর কন্ঠে কেমন বাজবে ---আগুনের গান--আগুনের সুর?
* * * * * *
নির্বাসনের কত না আয়োজন!
আলোকসজ্জা।ফুল।ঝলমলে জেল্লাদার বেশ-বিন্যাস।গয়না-গাটি।সানাই।ধুপ।পানাহার।হৈ চৈ।আনন্দ।
ফুল-ছড়ানো পথে শোভাযাত্রা।রাস্তার দুই পাশে মাঙ্গলিকধ্বণি। শুভেচ্ছার পুষ্পবৃষ্টি ঝরে ঝরে পড়ে।এসব উচ্ছাসের মাঝখানে উহ্য থাকে----মাকড়শার জালে আটকে যাওয়া প্রজাপতির কথা। ছল-চাতুরি এবং নিঃশর্তে বিকিয়ে যাবার গল্প।
'সোনার খাটে ঘুমাও কন্যা,মায়াবাণ- দৈত্য তোমার পাহারায় আছে।'
ঘুম ভাঙ্গলেই অন্য পৃথিবী।একে একে খুলবে মুখোশ।ছিন্ন হবে মায়াজাল।জানালাবিহীন ঘর।আলোহীন-বায়ুহীন।
নেই আকাশ দেখার কোন ঘুলঘুলি।একটি মাত্র দরোজা নেমে গেছে এক অন্তহীন অন্ধকারের দিকে।সিঁড়ির পর সিঁড়ি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে কোন পাতালের দিকে এই অগস্ত্য যাত্রা?
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১০
সমঝোতা অথবা আত্মাহুতি
শিখে নিয়েছি মুখোশ এবং সমঝোতা
পোষাকের দীনতা ঢাকার কৌশলী ভাঁজ।
ফিরিয়ে নিয়েছি
বলা নাবলা শর্তগুলো।সখ্যতার।
রাত দ্বিপ্রহরের জোনাকীরা ডেকে যাবে বলে কথা দিয়েছিলো।
জানালার পাশে জমে হিমঅন্ধকার
অনিদ্রপ্রতীক্ষার কালকুট বিষ।
জলের তীব্র গন্ধে ছুটে আসা হরিণের চোখ চেনে
আদিমকিরাতের ধনুকে টংকার তোলা মুদ্রার হিংস্রতা;
জল এবং জ্যোৎস্নার বিপরীতে সে কবে গিয়েছে? আত্মঘাতি।
পোষাকের দীনতা ঢাকার কৌশলী ভাঁজ।
ফিরিয়ে নিয়েছি
বলা নাবলা শর্তগুলো।সখ্যতার।
রাত দ্বিপ্রহরের জোনাকীরা ডেকে যাবে বলে কথা দিয়েছিলো।
জানালার পাশে জমে হিমঅন্ধকার
অনিদ্রপ্রতীক্ষার কালকুট বিষ।
জলের তীব্র গন্ধে ছুটে আসা হরিণের চোখ চেনে
আদিমকিরাতের ধনুকে টংকার তোলা মুদ্রার হিংস্রতা;
জল এবং জ্যোৎস্নার বিপরীতে সে কবে গিয়েছে? আত্মঘাতি।
বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১০
তুমি তার নাম ভুলে গেছো
দেখো----
কেমন করে পুড়ে যাচ্ছে এক একটি সবুজ পাতা;
আর ছাইগুলো কলমের কালি হয়ে তোমার লেখার খাতা ভরে দিচ্ছে নতুন শব্দ-সম্ভারে।
সহজ নয়-----
পুরোনো ক্যালেন্ডার জমানোর বাতিক ছেড়ে দেয়া।
পিছনের পাতাগুলো ঘাটলেই---------
কখনো ঝরে পড়ে একরাশ ফুল
কখনোবা তাড়া করে বিবর্ণ-হলুদ কঙ্কাল
অথবা ঘর-পালানো জ্যোৎস্নায় মাধবীর বনে সাপের নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ।
'কেবল আজকের জন্য বেঁচে থাকা'
--এমন আপ্তবাক্য মেনে নিয়েও
আনমনে বারবার দুই হাতে মেখে নিচ্ছো স্মৃতির ধুলোটুকু;
মুখ ভার করা আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছো-----
জল-ঝারি হাতে এক্ষুণি বুঝি নেমে এলো জলপরী
সমস্ত মালিন্য মুছে ফেলে
করতলে আবার মেখে নেবে সুগন্ধী-আতর।আকাশ-কুসুম।
স্মৃতির ভারে এতোটাই বিপন্ন-বিকল তুমি
ভুলে গেছো--কেন এই চলে আসা-ফিরে যাওয়া;
বইয়ের ভাঁজে রক্তিম-গোলাপ কার জন্য রাখা
ভুলে গেছো তুমি তার নামও।
এভাবেই--
হারিয়ে ফেলেছো শহরের মানচিত্র;সামনের পথ।
কেমন করে পুড়ে যাচ্ছে এক একটি সবুজ পাতা;
আর ছাইগুলো কলমের কালি হয়ে তোমার লেখার খাতা ভরে দিচ্ছে নতুন শব্দ-সম্ভারে।
সহজ নয়-----
পুরোনো ক্যালেন্ডার জমানোর বাতিক ছেড়ে দেয়া।
পিছনের পাতাগুলো ঘাটলেই---------
কখনো ঝরে পড়ে একরাশ ফুল
কখনোবা তাড়া করে বিবর্ণ-হলুদ কঙ্কাল
অথবা ঘর-পালানো জ্যোৎস্নায় মাধবীর বনে সাপের নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ।
'কেবল আজকের জন্য বেঁচে থাকা'
--এমন আপ্তবাক্য মেনে নিয়েও
আনমনে বারবার দুই হাতে মেখে নিচ্ছো স্মৃতির ধুলোটুকু;
মুখ ভার করা আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছো-----
জল-ঝারি হাতে এক্ষুণি বুঝি নেমে এলো জলপরী
সমস্ত মালিন্য মুছে ফেলে
করতলে আবার মেখে নেবে সুগন্ধী-আতর।আকাশ-কুসুম।
স্মৃতির ভারে এতোটাই বিপন্ন-বিকল তুমি
ভুলে গেছো--কেন এই চলে আসা-ফিরে যাওয়া;
বইয়ের ভাঁজে রক্তিম-গোলাপ কার জন্য রাখা
ভুলে গেছো তুমি তার নামও।
এভাবেই--
হারিয়ে ফেলেছো শহরের মানচিত্র;সামনের পথ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)