সোমবার, ৫ জুলাই, ২০১০

জলের ফোটায় পরমায়ু

পাঠোদ্ধারে মগ্ন থাকি জলের মুকুর।
পুরাকালের এক ছবি।
প্রাচীন পুঁথির টানে এখানেই বারবার ফিরে আসি
স্পর্শ করি কালকুট
ভেঙ্গে ফেলি নদীর মৌনতা ।
ঘোর। কেবলি জলের ঘোর।
প্রগাঢ় ঘোরের নিগড়ে অর্ধেক জীবন বাঁধা পড়ে যায়
বাকী আর কতটুকু ফেরা?ভগ্নাংশের কতটা নিজস্ব?
বিন্দু বিন্দু নীরে ভেজা জীবন যাপনের খাতা।দীর্ণ-জীর্ণ।
কি ভীষণ আগুন-স্বভাব
অভিযোগের উদ্ধত আঙ্গুলগুলো।

শত অকর্তব্যের দায়

কার তুমি
ঘরের?ঘোরের?

প্রতিদিন একটি পালক পুড়ে
ভস্ম-স্তুপের ব্যাপ্তি বেড়ে যায়।

জলবিন্দুতে নিষিক্ত বিষ।
পরমায়ু জলের ফোটায়।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০০৯

দিগঙ্গনার ঘর

লিখে যাচ্ছি নিঃসঙ্গতা আর খুলে যাচ্ছে
একটি বাদামী-দরোজা........................

জিতে যচ্ছে
জিতে যাচ্ছে প্রবল-প্রতাপ অবসাদ;

অসহ-দহনে ক্ষয়ে যাচ্ছে আয়ুর সোনালী ডানাগুলো

কোথায় পালাবো?
কোথায় ফিরবো?
যুদ্ধ-বিধ্বস্ত নগরীতে ঠিকানা দিক্‌-চিহ্ন হীন।
অথবা

কোথাও কি কখনো আদৌ কোন ঘর ছিল?



দূরাগত মিহি সুরে বেজে ওঠা বীণ;

স্পর্শাতীত দিগন্ত-বলয়;

দিগন্ত-বালিকার কোন ঘর থাকেনা।

চাইনা বৃষ্টি-----আগুন চাই

দিওনা বৃষ্টি ।
নিভতে চাইনা
গাইছি আগুনের স্তব।সাগ্নিক।

শুধু শুধু জড়ো করি আসর-ভাঙ্গা জলসাঘরের দীর্ঘশ্বাসগুলো
যাবার নিয়মে চলে যায় রূপকথা বলা সবুজ টিয়াটি।তার
অনিচ্ছার একটি পালক শুধু পড়ে থাকে।পুড়াই।
মুছে ফেলি পেলব ঘাসের সবুজ-মমতা।

মুঠোতে মেখেছি জ্যোৎস্না আর
চাঁদের গরলটুকু নিঃশেষে করেছি পান;
দেখেছি হৃৎপিন্ডের নীল রং ।তীব্র।

ভাল আছি।
ঝিনুকের খোলের ভেতরে গুটানোর ভব্যতাটুকু রপ্ত হয়ে গেলে
সবাই ভালই থাকে।এভাবেই।

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

গোলকধাঁধার বাড়ী

করতলে একটি কুয়াশা-মাখা ভোর ছিল
আঙ্গুলের ফাঁকে কখন যে ঝরে গেছে বুঝতে পারিনি।



কষ্ট পাই
বর্ণাঢ্য-জলসায় অচেনা মুখের ভীড়ে একা হয়ে গেলে
ক্রমশঃ কুঁকড়ে যাই নিজের ভেতরে।

হারতে চাইনা।বারবার হেরে যাই।
নিজের প্রলম্বিত ছায়াটুকু ক্রমাগত নিজেকে অতিক্রম করে যায়।
কষ্ট পাই।

বিস্মরণের আজন্ম-স্বভাবে ঠিকানা-বিভ্রাট;
এ গলি ও গলি খুঁজতে খুঁজতে
তোমার গলির একদম পাশ দিয়েই
আনমনে এক ভুল বাড়ীতে ঢুকে যাই

সে এক ঐন্দ্রজালিক বাড়ী
গোলকধাঁধা.......................................

রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০০৯

মাত্র একটি শব্দ উচ্চারণের হের ফের

তেমন করে যাওয়া হয়না।
কোন সীমাহীনেই তো হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম------------------------------
গন্তব্যবিহীন এক ট্রেনের হুইসেল যখন বেজে ওঠে,
বলি--একটু থামো।ভেবে দেখি আর আমার নেবার মতো কিছু বাকী আছে কিনা।

নিতান্ত প্রকৃতির খেয়ালে বেড়ে ওঠা অশ্বত্থ--কতদূর তার শিকড় ছড়ায়
কেমন রাশি রাশি নেমে আসা ঝুরি-জটাগুলো ঘিরে রাখে তার সমস্ত অবয়ব!

এওতো সত্যি--সম্পর্কগুলো কুরুশ-কাঁটার বুননে নকশী-ফুলের মতো
মনে করো --অনবধানে শেষ গিঁট খুলে গেছে
তখন আর কোথায় নকশা
কোথায়ইবা মনোলোভা কারুকাজ!
তবু কি তার মাহাত্ম্য!
দ্রৌপদীর অন্তহীন আঁচলের মতন--কেবলই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর, দীর্ঘতম........................

কোন পথে গেছে অমৃত-উদ্যান
কোনটি অতলান্ত-অন্ধকার টানেলের পথ

মাত্র একটি শব্দ-উচ্চারণের হেরফের বদলে দেয় আমূল জীবন;
মাত্র একটি------হ্যাঁ
অথবা----------না।

মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০০৯

কেউ ডেকে ডেকে ফিরে যায়

কেবল ঘুমের ভেতরেই সুখে থাকি
কেবল ঘুমের ভেতরেই স্বপ্নের নির্ঝরিণী..............



মাঝরাতের বেহালার ছড়ে ডেকে ডেকে ফিরে গেছে কেউ
ঘুম ভাঙ্গা ছায়া ছায়া ভোরে কোন পদচিহ্ন ছিলনা
বাতাসের মীড়ে ছিলনা কোন বিষাদের রেণু
সুরের নোনাজল মিশে গেছে ভোরের শিশিরের মাঝে;
এভাবেই রাতের সমস্ত স্মৃতি মুছে ফেলে প্রভাতের আলো।

এক চিলতে বারান্দায়
পরিত্যক্ত পাউরুটি কিংবা কর্নফ্লেকসের টুকরোগুলো ছড়িয়ে দিলে
ক'টি ক্ষুধার্ত চড়ুই কেমন ব্যগ্র উল্লাসে খুটে খুটে নেয় খাদ্যকণাটুকু;
'ভালবাসা 'কি তেমনি কোন খাদ্যবস্তুর নাম-----
কেউ ব্যাকুল আনন্দে লুফে নেবে বলে
কেউ করুণাবশতঃ ছুড়ে দেবে?

কেউ উদাসীনতার ঘোমটায় মুখ ঢেকে রাখে
কেউ ডেকে ডেকে ফিরে যায়।

শনিবার, ১ আগস্ট, ২০০৯

সময় মত যাওয়া হয়না



--কত বড় হতে চাও?
--আমার হাতগুলো এমন দীর্ঘ হবে --কীনব্রীজের রেলিং‌‌য়েরফাঁকে বাড়িয়ে দিয়ে ঘুরিয়ে দেবো আলী আমজদের ঘড়ির কাঁটাগুলো।

--পারবেনা।মানুষ এত বড় হয়না।শরীর-কাঠামোর নির্দিষ্ট সীমা আছে।

অতএবঃ

স্বপ্নের দুরন্ত-ঘোড়াটির টগবগ টগবগ গতি রুদ্ধ হয়।
আকাঙ্ক্ষার পালকগুলো একে একে এভাবেই খসে পড়ে----
এভাবেই শুরু---

ইচ্ছে-পথের মোড়ে মোড়ে রোড-ব্লক;
দ্বিধা-দ্বন্ধ-উদাসীনতার দরোজার কড়া নাড়তে নাড়তে
হাতটাই নিঃসাড়---------সহজে কপাট খোলেনা।
এতোটা সরল নয় লক্ষণ-রেখার গন্ডী পার হওয়া।
কেবল পথিক জানে পায়ের নীচে ফোসকার দাগগুলো কতোটা গভীর।

যাই।
বড়ো দেরী করে যাই
কোথাও যাওয়া হয়না--ঠিকঠাক সময় মতন।